নিউজ ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার নাম ক্রিকেট। জনপ্রিয় এই খেলাটির প্রধান আকর্ষণ হল বল। ক্রিকেট বলের আয়তনের ৩ ভাগের ১ ভাগ আকারের একটি কালো বল থাকে। এর ওপর প্রথমে কিছু সুতা প্যাঁচানো থাকে।
তার ওপর নরম কিন্তু নমনীয় প্লাস্টিকের একটা আবরণ দেয়া হয়। এই আবরণের ওপর নরম কাপড়ের একটা আবরণের ওপর আবারও নমনীয় লাল বা সাদা রঙের প্লাস্টিকের আবরণ লাগান হয়। এরপর থাকে মূল চামড়ার আবরণ যা সুন্দর ভাবে রাউন্ড করে সেলাই করা থাকে।
প্রতিটি ক্রিকেট বলের একই পরিমাণ ওজন থাকে। প্রতিটি ক্রিকেট বলের ওজন ১৫৫.৯ গ্রাম থেকে ১৬৩ গ্রামের মধ্যে হয়ে থাকে। বলের ওপরের চামড়ার রঙটা বহুদিন ধরে শুধু লাল রঙেরই ছিল।
এরপর যখন দিবা-রাত্রি ক্রিকেট ম্যাচ শুরু হয়, তখন থেকেই সাদা রঙের বল ব্যবহার শুরু হয়। রাতের বেলা ফ্লাড লাইটের আলোয় লাল রঙের বল সহজে দেখা যায় না বলেই লালের বদলে অন্য কোনো রঙ খোজা হচ্ছিল।
এজন্য হলুদ আর কমলা রঙের বল দিয়ে খেলা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত সাদাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। আম্পায়াররা অনেক সময়ই খেলা চলতে চলতে বল পরিবর্তন করেন কারণ কুয়াশা বা অমসৃণ হয়েছে কিংবা বল নরম হয়ে গেছে বড় জোর বল ফেটে গেছে। আসলে বলের সাইজ নষ্ট হয়ে যায় বলে বল পরিবর্তন করা হয়।
ক্রিকেটের বল কিন্তু পুরোপুরি গোল নয়! এর একদিকের পরিধি ২২৪ মি.মি.আর আরেক দিকের ২২৯ মিঃমিঃ! আশ্চর্যজনক হলেও ব্যাপারটা সত্য। তবে সকল দেশে এক টাইপের বল দিয়ে খেলা হয় না। সব একদিনের ম্যাচ হয় অবশ্য কুকাবুরা বল দিয়ে। কিন্তু এই উপমহাদেশে যখন টেস্ট ম্যাচ হয়, তখন খেলা হয় এসজি ক্রিকেট বল দিয়ে। ইংল্যান্ডে টেস্ট ম্যাচ হয় ডিউক ক্রিকেট বল দিয়ে। আবার অস্ট্রেলিয়া, দ.আফ্রিকা কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট ম্যাচ হলে তখন আবার চলে আসে কুকাবুরা বল।
এসজি কিংবা ডিউক বল পেস বোলারদের বেশ উপকার করে। কারণ কুকাবুরা বলের তুলনায় এই বলের সিম (বলের উপরের সুতা) বেশ ভাল হয়। যা কিনা বাতাসে সুইং কিংবা পিচে পড়ে আরও ভাল সুইং করতে পারে। আর বল যত পুরনো হতে থাকে, দেখা যায় ফিল্ডাররা খুব ভালো করে শুধু একদিকেই ঘষতে থাকে। এতে করে বলের একদিক পুরনো হয়, অন্যদিক চকচক করতে থাকে। আর তাতেই ফাস্ট বোলাররা রিভার্স সুইং করতে পারে।
২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে শ্রীলঙ্কায় একটা ক্রিকেট বল তৈরি করা হয়। বলটা ছিল হীরার তৈরি! ওজন ৫৩.৮৩ ক্যারেট আর পুরো ১২৫ গ্রাম দিয়ে স্বর্ণের বলের সিম বানানো হয়েছিল।