Fri. Apr 4th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

38খোলা বাজার২৪, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থেকে ফাজিল পাস ও স্নতক এবং কামিল (স্নতকোত্তর) মাদরাসার যাবতীয় কার্যক্রম ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনে দিয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ওই দিনই এক ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদরাসার কার্যক্রম স্থানান্তরিত হওয়ায় গভীর আর্থিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তে এখন থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর প্রায় ১১ কোটি টাকা বাৎসরিক আয় থেকে বঞ্চিত হবে। বিশেষ করে ১২৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনভাতাদি বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এতোদিন মাদরাসা ফান্ড থেকে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হচ্ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা-২ থেকে মঙ্গলবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্র্ষ থেকে দেশের ১২৭৭টি ফাজিল (স্নতক) ও ২৭৭ টি কামিল (স্নতকোত্তর) মাদরাসার এর পাঠদান, অধিভুক্তি, নবায়ন, কেন্দ্র নির্ধারণ, পরিদর্শন, কোর্স বন্টন, পরীক্ষা, ভর্তিসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হবে। এতো দিন এসব কার্যক্রম কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এদিকে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাদরাসার যাবতীয় কার্যক্রম চলে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব ও অর্থ শাখার প্রাপ্ত তথ্য মতে, ভর্তি ফি, সনদ উত্তোলন, পরীক্ষার ফি বাবদ মাদরাসা শাখা থেকে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ থেকে ২২ কোটি টাকা আয় হতো। মাদরাসা সংশ্লিষ্ট কাজে খরচ বাদে ১০ থেকে ১১ কোটি টাকা নিট আয় থাকতো। জানা গেছে, মাদরাসা শাখার এ আয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাদিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হতো। ২০১২ সালের ২১৭ তম সিন্ডিকেটে ১৩৪ জন জনবল নিয়োগ দেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আলাউদ্দিন। ১৩৪ টি পদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে ১২৩ জনের বিষয়ে অনুমোদন না থাকায় মাদরাসার ফান্ড ও শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে এতো দিন এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করে আসা হচ্ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব ও অর্থ শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আকামুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনিতেই ৪৯ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি রয়েছে। মাদরাসা ফান্ড থেকে যে আয় হতো সেটাও এখন থেকে বন্ধ হয়ে গেল। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিকভাবে চরম ধাক্কা খেল। এ সংকট দ্রুত সমাধান না হলে প্রতি বছর দুই থেকে তিন মাস শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি প্রদান করা সম্ভব হবে না।’

আর্থিক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আফজাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমান আর্থিক সংকট দুইভাবে সমাধান হতে পারে। প্রথমত-ইউজিসি থেকে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত-বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী মাদরাসা শাখায় কাজ করতো তাদেরকে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা। এখান থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে নিলে বাজেটের উপর চাপ কমবে।’

নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদরাসা শাখার এক জেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাদরাসার কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ায় আর্থিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি সংকটে পড়বে। এটার দ্রুত সমাধান না হলে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘আর্থিক সংকটের বিষয়টি আমিও ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করছি। বিষয়টি ইউজিসি ও শিক্ষামন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। আশা করি তারা এ বিষয়ে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’