আজ আমরা আলোচনা করবো ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের মধ্যে কেমন শুদ্ধাচারের চর্চা থাকা উচিত সেই সম্পর্কে-
ভাড়াটিয়া হিসেবে
– ভাড়াবাড়িকে নিজের বাড়ির মতো যত্ন করুন, পরিচ্ছন্ন রাখুন।
– বাড়িওয়ালার দারোয়ান বা কেয়ারটেকারকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো থেকে বিরত থাকুন। করালেও প্রাপ্য পারিশ্রমিক তাকে দিন।
– নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করুন। বাড়িওয়ালার কাছ থেকে মানি রিসিট নিয়ে তা সংরক্ষণ করুন।
– বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বিল বাড়িভাড়ার অন্তর্ভুক্ত হলেও অপচয়ের মানসিকতা পরিহার করুন। মনে রাখুন, অপচয়ের পরিণতি প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনাকে ভোগ করতে হবে।
– অসুবিধা বা অভিযোগ থাকলে বাড়ির মালিক বা কর্তৃপক্ষকে জানান। আগে ভাড়া থেকেছেন এমন কোনো বাসার সাথে তুলনা করবেন না।
– বাড়িওয়ালাকে না জানিয়ে সাবলেট/ রুম ভাড়া দেবেন না।
– ভাড়া নেয়ার সময় যত জন থাকবেন বলে চুক্তি করেছেন, পরে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হলে বাড়িওয়ালার সাথে আলোচনা করে নিন।
-ঘরে বা বাইরে বাড়িওয়ালার বদনাম করবেন না। ভাড়াবাড়ি অথবা ফ্ল্যাটের সীমাবদ্ধতা অন্যদের বলে বেড়াবেন না। প্রয়োজনে এর চেয়ে ভালো বাসা খুঁজে নিন।
বাড়িওয়ালা হিসেবে
– বাড়িভাড়া যুক্তিসীমার মধ্যে নির্ধারণ করুন।
– চুক্তি শেষ হয়ে গেলে এডভান্সের টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করবেন না।
– ভাড়া দেয়ার পূর্বেই পানি, গ্যাস ব্যবহার ও অন্যান্য নিয়মনীতি সম্পর্কে ভাড়াটিয়াকে অবহিত করুন।
– বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল ভাড়ার সাথে সংযুক্ত থাকলে ন্যায্য বিল রাখুন। এ থেকেও মুনাফা করার মানসিকতা পরিহার করুন।
– বাড়িভাড়া দেয়ার আগে ভাড়াটিয়া সম্পর্কে যথাযথ খোঁজখবর নিন। ভাড়াটিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও বাড়িভাড়া সম্পর্কিত লিখিত চুক্তিপত্র সংরক্ষণ করুন।
– সঙ্গত কারণে কেউ ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলে আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়টি নিষ্পত্তি করুন। যে-কোনো উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি কিংবা পানি/ বিদ্যুৎ/ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা থেকে বিরত থাকুন।
– দারোয়ান বা কেয়ারটেকারকে দিয়ে ভাড়াটিয়াকে অপদস্থ করবেন না।
– পূর্ব নোটিশ ছাড়া বাড়িভাড়া বাড়াবেন না।
– ভাড়াটিয়াদের চিঠি/ মেসেজ পৌঁছে দিতে বিলম্ব করবেন না।