শনি. সেপ্টে ১৮, ২০২১

খােলাবাজার২৪,শুক্রবার,০৯জুলাই,২০২১ঃ সেদিন কাগজে দেখলাম লকডাউনের মধ্যেও খুপরি ও কোদাল নিয়ে অনেক শ্রমজীবি মানুষ রাস্তার পাশে বসে আছেন। সাংবাদিককে তারা জানিয়েছেন যে এখন আর কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না। একজন জানিয়েছেন সাতদিন ধরে আসছেন। মাত্র দুদিন কাজের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি সাংবাদিককে প্রশ্ন করেছেন এই আয় দিয়ে কি করে তাঁর সংসার চলে। কি করে সরকারের দেয়া ত্রাণ পাওয়া যাবে, কোথায় পাওয়া যাবে তা তারা জানেন না। এমন পরিস্থিতিতে এই দুঃখী মানুষগুলোকে বাঁচানোর জন্য এক্ষুনি কিছু উদ্যোগ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর প্রতিনিধিদের, অসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিত্তশালীদের একযোগে কাজে নেমে পড়ার এটিই শ্রেষ্ঠ সময়। তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে আহবান করছি তারা যেন এসব দু:খী মানুষদের কি করে ৩৩৩ নাম্বারে যোগাযোগ করে খাদ্য সাহায্য পাওয়া সম্ভব তা শিখিয়ে দেন। ব্যাংকগুলোর কাছে আহ্বান করছি তারা যেন এই দুঃসময়ে তাদের সিএসআর কার্যক্রম জোরদার করে এই দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। অনেকের বাসাতেই ছুটা গৃহকর্মীরা আসতে পারছেন না। তাদের যেন তারা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে এই সময়ের প্রাম্য সাহায্য হিসেবে পাঠিয়ে দেন। এছাড়াও সরকার এই সময়টায় এমন কিছু পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামো মেইনটেনেন্সধর্মী পূর্তকর্ম হাতে নিতে পারেন যাতে শ্রমজীবি মানুষের খানিকটা হলেও কাজ মেলে। আজই একজন ওয়ার্ড কমশনারের সাথে কথা হলো। তিনি জানালেন নিজের সাধ্যমতো অর্থ যোগাড় করে কিছু অভুক্ত মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা তিনি করেছেন। কিন্তু এ জন্যে সিটি করপোরেশন বা সরকার থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ পেলে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের লোকহিত কাজ করা আরও সহজ হতো। আমাদের সারা দেশেই ছড়িয়ে আছে অসংখ্য এনজিও। তাদেরকে সহযোগী করে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে সরকার ও স্থানীয় সরকার এবং বড়ো বড়ো করপোরেট হাউস এই দুর্যোগে মানুষের জীবন ও জীবিকা- দুটো বাঁচাতে অনেক কিছুই করতে পারে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনসহ অনেক স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশন বা সংস্থা এই সংকটকালে তাদের সাধ্যমতো অভাবী মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এদের মতো সংস্থাগুলোকে আরও বেশি সিএসআর ও সামাজিক সমর্থন দেবার জন্য যাদেরই সাধ্য আছে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য অনুরোধ করছি। আটানব্বইয়ের বন্যার সময় দেখেছি এই দেশের সামর্থ্যবান মানুষ কি বিপুল ভাবেই না সহযোগিতার উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এই ঢাকার পাশেই বন্যার্তদের বাঁচাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবীকে প্রাণ দিতেও আমরা দেখেছি। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সময় শত শত স্বেচ্ছাসেবকদের দিনরাত পরিশ্রম করতে দেখেছি। সে সময় ব্যাংকগুলো আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাদের সিএসআর কর্মযজ্ঞের বিপুল বিস্ফোরণ খুব কাছে থেকে আমি দেখেছি। এমন কি সুদূর কাঠমুন্ডুতে ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক তথা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে। শীতার্ত মানুষের, ছিটমহল ও চরের কষ্টে থাকা মানুষের পাশে তারা উদারভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এবারের দুর্যোগ তো আরও ব্যাপক। আরও প্রলম্বিত। এমন সময়ে তাদের এবং সমাজের বিত্তবানদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসবার কথা। এই সমাজই তো তাদের চাহিদা তৈরি করে। তাহলে সেই বিপন্ন সমাজের পাশে তাদের দাঁড়ানোর কথা নতুন করে মনে করিয়ে দিতে হবে কেন? শুনেছি জাপানে সুনামির পর সেদেশের ব্যাবসায়ীরা দিনের পর দিন তাদের কর্মী ও ভোক্তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। তেমন কোনো কর্মচ্যুতি ঘটায় নি। এই উদাহরণ থেকে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে। তবে আশার কথা অনেক ব্যবসায়ী সংগঠন মানুষের জন্য অক্সিজেন ও খাবার যোগান দিচ্ছে। ব্যাংকগুলোও অসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করতে শুরু করেছে। তবে সময়টা যে বড়ই খারাপ। তাই আরও দ্রুত সবাইকে সামাজিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে দুঁঃখী মানুষের পাশে গিয়ে তাড়াতাড়ি দাঁড়াতে হব। যদ্দিন বেশির ভাগ মানুষকে টিকা না দেয়া যাচ্ছে তদ্দিন সবাই মাস্ক পরা এবং ভীড় এড়িয়ে চলাই বাঁচার উপযুক্ত কৌশল। জেনে ভালো লাগলো যে এফবিসিআইয়ের নয়া সভাপতি অচিরেই মানুষের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবেন।পুলিশের আইজিকেও মাস্ক পরার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে শুনলাম।এই কাজে সমাজের সংগঠিত সকল শক্তিকে নেমে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এই করোনা ভাইরাসের বরুদ্ধে সচেষ্ট সমাজই এখন আমাদের সবচেয়ে বড়ো রক্ষাকবচ হবার ক্ষমতা রাখে। তাই আসুন অতীতে যেমন দুর্যোগে দু:সময়ে জেগে উঠেছিলাম সাহসী মানুষ হিসেবে তেমনি মানবতার ডাকে ফের জেগে উঠি। দু:খী মানুষের পাশে দাঁড়াবার এই শ্রেষ্ঠ সময়কে আমরা কিছুতেই হাত ছাড়া করতে পারি না। আসুন সবাই আমরা এই দুর্যোগ মোকাবেলায় রুখে দাঁড়াই।