Wed. Aug 27th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

ফেরদৌস আলম, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ রবিবার সকালে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ১১সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে।

বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধির ফলে দীর্ঘ সাত দিন ধরে উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি, ফজলুপুর ও ফুলছড়ি ইউনিয়নের মানুষরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সারেজমিনে দেখা যায় , উপজেলার এরেন্ডবাড়ি, ফজলুপুর, ফুলছড়ি এ তিনটি ইউনিয়ন একবারে চরাঞ্চলে অবস্থিত। অন্য সব ইউনিয়ন গজারিয়া, উদাখালী, উড়িয়া ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা চরাঞ্চলে পড়েছে। একাধারে সাত দিন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ার কারণে উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের- পশ্চিম জিগাবাড়ি,আলগারচর, আনন্দবাড়ি, ভাটিয়াপাড়া, সন্যাসীর চর, ডাকাতিয়ার চর, চর চৌমহন, পাগলার চর, দক্ষিণ হরিচন্ডি, চর হরিচন্ডি। ফজলুপুর ইউনিয়নের- গুপ্তমনি, খাটিয়ামারী, নিশ্চিন্তপুর, উত্তর খাটিয়ামারী। ফুলছড়ি ইউনিয়নের- খঞ্চাপাড়া, গাবগাছি, জামিরা, পেপুলিয়া। গজারিয়া ইউনিয়নের- রসুলপুর, চর কাতলামারী, জিয়াডাংগা, ভাজনডাংগা, কটকগাছা, গলনা। কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের – ছাতারকান্দি এবং উড়িয়া ইউনিয়নের- চর রতনপুর, মধ্য উড়িয়া, কালাসোনা, উত্তর উড়িয়া অঞ্চলের মানুষরা পানিবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

অপরদিকে, পানি বৃদ্ধির‌ ফলে উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের চর কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফজলুপুর ইউনিয়নের হারুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া নদী ভাঙনের শিকার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ রয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জিয়াডাঙ্গা গ্রামের চায়না বেগম বলেন, সাত দিন ধরি পানি বন্দি হয়্যা আচি, কেউও একবার খোঁজো নিবার আইলো না। ছোলপোল, গরু-বাছুর নিয়্যা পোকা-মাকড়ের সাথে যুদ্ধ করে থাকপার নচি।

একই গ্রামের কাজলী আক্তার বলেন, কষ্টের মধ্যেই সংসার চলছে । পানির মধ্যেই বসে থাকি, কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো। চলাফেরা করা কষ্ট, বসার জায়গা নাই, মাচা তৈরি করে রান্নাবাড়ি করছি।

আব্দুস সালাম জানান, কয়দিন ধরিয়া খুব কষ্ট করি আচি। রান্নাবান্না নাই, ছোলপোল নিয়ে না খায়া আচি। চেয়ারম্যান, মেম্বাররাতো একবারো খোঁজ নিবার আলো না, ওগলে শুধু ভোটের জন্য আইসে,হামার দুঃখ কষ্ট দেখার কেউ নাই।

ফাতেমা বেগম বলেন, এই মুর্হুতে খাওয়া-দাওয়ার কষ্টটাই বেশি। কারো বাড়িত যায়া যে এ্যনা খাবার আনবো, তারও উপায়ও নাই।

ফুলছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: শহিদুজ্জামান জানান, অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে রতনপুর এলাকার ৭ হাজার ২০টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিন্টু মিয়া জানান, বন্যার কারণে আমনের খেতসহ ১২০ হেক্টর জমির শাক-সবজি ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে গেছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ইসলাম জানান, রবিবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ১১সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: খোরশেদ আলী খান বলেন, ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে এসব বানভাসি পরিবারের তালিকা প্রস্তত করে সংশিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে বন্যা কবলিত পরিবার গুলোর মাঝে তা বিতরণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, বন্যার পূর্বেই বন্যা মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের পূর্ব প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। উপজেলায় মোট ২৩টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। বন্যা কবলিত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও জিআর-এর চাল বিতরণের প্রস্ততি চলছে।