সুনান বিন মাহাবুব, পটুয়াখালীঃ প্রায় ১২ বছর পর কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের ছয়শত পরিবার স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করেছেন। সুপার সাইক্লোন সিডরের তান্ডবের পরে বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত জনপদ লালুয়ার রাবনাবাদ পাড়ের চারিপাড়ায় বসতি ছিল এ পরিবারগুলোর। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অস্বাভাবিক জোয়ারে তলিয়ে যেতো এ অঞ্চলের জনপদ। কিন্তু পায়রা বন্দরে কর্তৃক্ষের পুনর্বাসনের মাধ্যমে পাকা ভবন পেয়েছে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।
জানা গেছে,পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ পাড়ের চারিপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নেওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের ৬২০ পরিবার এখন মহল্লাপাড়ায় পায়রা বন্দরের পুনর্বাসন পল্লীর পাকা ভবনে বসবাস করছেন। এসব পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পরে এ বছর স্বস্তিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেছেন। ওই সব গ্রামের জমি পায়রাবন্দর অধিগ্রহন করায় তারা বসতবাড়ির ক্ষতিপুরন পেয়েছেন। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এসব পরিবার থেকে একজন করে সদস্য বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। সুবিধাভোগী মোঃ শামিম জানিয়েছেন, স্ত্রী সন্তান নিয়ে বন্যার সময় আতঙ্কে থাকতেন তারা। পানিতে তলিয়ে যেতো তাদের বসতঘর। এই বছর পাকা ভবনে উঠে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারছেন
এছাড়াও শামিমের মতো একাধিক সুবিধাভোগীরা জানিয়েছেন, আগে বাড়ি থেকে কোমর সমান পানি পেরিয়ে মসজিদের মধ্যে কোনমতে ঈদের নামাজ পড়তেন। গ্রামের কোন পরিবার কারও বাড়িতে নৌকা ছাড়া যোগাযোগ করতে পারতেন না। বর্ষায় জীবন-জীবিকায় চরম ধকল পোহাতে হয়েছে তাদের। রান্নার চুলা পর্যন্ত পানিতে ডুবে যেতো। তারা এই বছর পাকা ভবনে স্বস্তিতে ঈদ পালন করেছেন।
লালুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস জানিয়েছেন, রাবনাবাদপাড়ের এসব পরিবার ১২ বছরের বেশি সময় কষ্টে জীবন যাপন করেছে। তাদের এখন জলোচ্ছ্বাস ভোগান্তি লাঘব হয়েছে। প্রত্যেককে পাকা ভবন নির্মান করে দেয়া হয়েছে।