খোলা বাজার২৪ ॥ বুধবার, ১১ নভেম্বর ২০১৫: রোবট নিয়ে গবেষণা আর রোবটকে কাজে লাগানো এখন বিজ্ঞানীদের কাছে ডালভাত। আগে শুধু সিনেমাতেই এমনটি দেখা যেতো। কিন্তু রোবটকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে তাদের দিয়ে কি কাজ করানোর চিন্তা করা হচ্ছে তা শুধু বিজ্ঞানী আর কোম্পানিগুলোই জানে। বর্তমানে রোবট নিয়ে একটি অভিনব সেবা দেয়ার কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। আর এ সেবা পেতে হয়তো খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না। কারণ অপেক্ষার পালা শেষ করে তারা উšে§াচন করেছেন কাজের বিবরণ, ধরন আর সময়।
দোকানে অর্ডার দিলে বাসায় এসে জিনিসপাতি পৌঁছে দেয়া হয়, এমন অনেক সেবাই আজকাল চালু হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু কেমন লাগবে যদি দেখেন আপনার বাসায় একটি রোবট এসে সরবরাহ করছে অর্ডার দেয়া পণ্যটি? অদ্ভুত শোনালেও সামনের বছর থেকেই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের অধিবাসীরা এমনটা দেখতে পাবেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়্যার্ড জানিয়েছে এ তথ্য। এছাড়া জনপ্রিয় পোর্টাল ডেইলি মেইল এটি নিয়ে একটি ফিচারও প্রকাশ করেছে।
স্টারশিপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে এই রোবট। সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপস ‘স্কাইপে’র সহপ্রতিষ্ঠাতারাই এ প্রতিষ্ঠানটির হর্তাকর্তা। তাদের দাবি, ছয় চাকার এ রোবট অন্তত ৯ কেজি মালামাল বহন করতে পারবে। ছোটখাটো দূরত্বে মাত্র আধাঘণ্টার মধ্যেই পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দেবে এ রোবট।
স্টারশিপের প্রধান নির্বাহী আহতি হেইনলার ভাষ্যমতে, সামনের বছরে লন্ডনের গ্রিনউইচে পরীক্ষামূলকভাবে এ রোবট তার কার্যক্রম শুরু করবে। এরপর তা যুক্তরাষ্ট্রেও পাঠানো হবে। তার দাবি, রোবটটি ৯৯ শতাংশ স্বনিয়ন্ত্রিত।
হেইনলা আরো বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, পণ্য পৌঁছে দিতে যে খরচ হয়, তা পণ্যের মূল্যে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। তাই আমরা পণ্য সরবরাহের খরচ কমিয়ে আনতে এই রোবট নির্মাণ করেছি।’
ওয়্যার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো পণ্যের অর্ডার দিলে স্বয়ংক্রিয় এই রোবট আগে থেকে ইন্সটল করা ম্যাপিং সিস্টেম, জিপিএস, ক্যামেরা, জাইরোস্কোপ প্রভৃতি ব্যবহার করে নিজেই ক্রেতার বাসায় পণ্য সমেত পৌঁছে যাবে। অবশ্য একজন মানুষ সর্বদাই পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে রাখবে কেন্দ্র থেকে, যাতে রোবটটি কোনো ভুল করে বসলে তা সামাল দেয়া যায়।
ক্রেতা তার মোবাইলের একটি বিশেষ অ্যাপ দ্বারা পুরো সময় রোবটটির অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন। একবার পণ্য পৌঁছে গেলে শুধু ওই ক্রেতাই রোবটের কাছ থেকে পণ্যগুলো নিতে পারবেন। কাজেই চুরি হওয়ার কোনো ভয় নেই বললেই চলে।
এর আগে ড্রোনের সাহায্যে পণ্য পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে কিছু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন বিষয়ক আইনি জটিলতার মারপ্যাঁচে পড়ে এখন সে প্রক্রিয়া একরকম স্থগিত। কাজেই এ রোবটই হতে পারে পণ্য সরবরাহের বিকল্প উপায়।
