Fri. Jun 5th, 2026

খােলা বাজার২৪। শনিবার, ০৩ মার্চ , ২০১৮:  মিয়ানমার আইন না মেনে বাংলাদেশের সীমান্তে বারবার যে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে সে বিষয়টিকে হালাকাভাবে দেখা ঠিক হচ্ছে না বলে মনে করেন কুটনীতিকরা। তাদের মত মিয়ানমারের এ ধরণের আগ্রাসনের বিপরীতে বাংলাদেশেরও শক্ত সামরিক অবস্থান নেওয়ার সময় হয়েছে। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক তৎপরতা জারদার করার পরামর্শও তাদের।

আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে সীমান্তের দেড়শো গজের মধ্যে সেনা মোতায়েন করেছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সমঝোতাও রক্ষা করেনি। উল্টো নো ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে দেশটির সেনারা।

এ নিয়ে পতাকা বৈঠক করেছে দুই দেশ। যেখানে বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে গুলি ছোঁড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। সেনা মোতায়েনের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এ অবস্থায় দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আকমল হোসেন বলেছেন, মিয়ানরের ওপরে যে প্রত্যাশিত চাপ তৈরি করা দরকার সে চাপ দেখা যাচ্ছে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আমাদের উদ্যোগ এখনোও সম্পূর্ণভাবে হচ্ছে না। প্রত্যাবাসন যদি কার্যকর হয় তাহলে ভারত এই সমস্যাটিকে একটি সমাধানের জন্য ভারত সাহায্য করতো তাহলে চীনও এগিয়ে আসতো। তবে, বাংলাদেশকে একটি শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

কূটনীতিকরা বলছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতেত বড় সঙ্কটের মুখে পড়েছে দেশ। মিয়ানমারকে সমুচিত জবাব না দেওয়া দুর্বলতা প্রকাশ বলে মনে করছেন তারা।

শক্ত ভাবে মিয়ানমারকে মোকাবেলা করলে জাতিসংঘসহ অনেক রাষ্ট্রই বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ভারত, চীন ও রাশিয়ার সাথেও সমঝোতার তাগিদ বিশ্লেষকদের। সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেট টিভি