খােলা বাজার২৪। শনিবার, ০৩ মার্চ , ২০১৮: না জেনে ওষুধ গ্রহণ, ভেজাল খাদ্য, পরিবেশ দূষণ এবং বেশি বয়সে গর্ভধারণসহ নানা কারণে বাড়ছে শিশুর জন্মগত ত্রুটি। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ঘণ্টায় নানা ত্রুটি নিয়ে জন্ম নিচ্ছে অন্তত ৩৬ শিশু। পাশাপাশি কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় শিশুমৃত্যুর সঙ্গে বাড়ছে প্রতিবন্ধীকতার হারও।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ব্রেইন ও হার্টের সমস্যাসহ নানা ধরনের শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে শতাধিক শিশু।
এমনই শারীরিক দুর্বলতার শিকার তানবিন। মায়ের সাহায্য ছাড়া বলতে পারে না নিজের নামও। বুদ্ধি প্রতিবন্ধকতার শিকার এই কিশোরকে নিয়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম যেন তার মায়ের।
গত বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ভর্তি ৭০৫ প্রসূতির মধ্যে ১২৫ জনের শিশুই শিকার হয় জন্মগত ত্রুটির।
বিএসএমএমইউ-এর প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম কাজল বলেন, সন্তান নেওয়ার পূর্বে চিকিৎসকের কাছে যাবেন। তাহলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানবেন মায়ের শরীরে কোনো সমস্যা আছে কি না। আর গর্ভধারণের ৩ মাসের মধ্যেই এই ত্রুটি শনাক্ত করা সম্ভব।
বর্তমানে শিশুমৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ জন্মত্রুটি। এই হার ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ হলেও তা প্রতিরোধে নেই বড় কোনো উদ্যোগ।
চিটাগাং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর চিলড্রেন সার্জারি এর পরিচালক ডা. তাহমিনা বানু বলেন, যখন জন্মগত ত্রুটি ধরা পড়ে তখন চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে পরে সিন্ধান্ত নিতে হবে প্রেগনেনসিটা কনটিনিউ করা যাবে কিনা।
শিশুর জন্মগত ত্রুটি এড়াতে নারীদের ৩৫ বছরের আগেই সন্তান ধারণ, স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
জন্মগত ত্রুটি পর্যবেক্ষণ প্রকল্প পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, সচেতনা, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারলে আমরা জন্মগত ত্রুটি অনেকটায় কমিয়ে আনতে পারবো।
চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত সনাক্ত করা গেলে জন্মগত কিছু ত্রুটি ভালো করা সম্ভব। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসা খরচ বেশি হওয়ায় নিঃস্ব হয়ে যায় অনেক পরিবার। তাই জন্মত্রুটি প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টিভি
