Mon. Jul 20th, 2026

মো: মামুনুর রশিদ : মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। জেলার সবচেয়ে বড় ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক দুই বারের ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, পরে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এবং বর্তমানে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ কুলাউড়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ। ধর্মীয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে ইতোমধ্যে জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামিযে ইসলামিয়া এবং স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয়–সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন। গ্রাম থেকে শহর, চা–বাগান থেকে হাট–বাজার—সবখানে সাহেদের গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক, দোয়া মাহফিল এবং ঘরে ঘরে কড়া নেড়ে ভোট চাওয়ার দৃশ্য এখন প্রতিদিনের চিত্র। তরুণ ভোটার, চা–শ্রমিক পরিবার, ব্যবসায়ী শ্রেণি, নারী ভোটার এবং প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার প্রতি সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে।

বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীকে পেছনে ফেলে “দোয়াত–কলম” প্রতীকে তার উল্লেখযোগ্য বিজয় তাকে রাজনীতির মাঠে আরও আলোচিত ও শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। পুরো কুলাউড়া নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার–২ আসনের আয়তন ৫৪৫.৭৩ বর্গকিলোমিটার, যেখানে রয়েছে একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন। ডিসেম্বর ২০২৩ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই আসনে মোট ভোটার ২,৮৫,৪৭৬ জন—পুরুষ ১,৪৬,৬৩৬ এবং নারী ১,৩৮,৮৪০ জন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিভিন্ন দলের অভিজ্ঞ ও শীর্ষস্থানীয় নেতারা—যাদের কারণে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সাহেদের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা, সব বয়সী মানুষের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘ দিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাকে হেভিওয়েটদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

কাজী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ প্রতিটি গ্রামে স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবী, শিক্ষক, চা–শ্রমিক নেতা, তরুণ উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপ করে তাদের সমস্যা–সম্ভাবনা ও উন্নয়ন প্রস্তাব শুনছেন। স্থানীয়দের মতে, কুলাউড়ার অবকাঠামো উন্নয়ন, চা–শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সড়ক–সেতু উন্নয়ন, পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা, মসজিদ–মাদরাসা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের প্রসারে তার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবসম্মত।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কুলাউড়ায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। বাজার, চায়ের দোকান ও জনসমাগমস্থলে আলোচনা চলছে কোন প্রার্থী কতটা এগিয়ে। রাজনৈতিক মহলের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদের শক্তিশালী মাঠপর্যায়ের অবস্থান পুরো নির্বাচনী মাঠকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কুলাউড়ায় নির্বাচনী উত্তাপ এখন তুঙ্গে—আর সেই উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন গ্রহণযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার কারণে আলোচনার শীর্ষে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ।