Sat. Jul 18th, 2026

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন উদ্দিনের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্টের অভিযানে জব্দ হওয়া প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি ড্রেজার মেশিন ও তিনটি স্টিলের বলগেট নৌকা চুরির ঘটনা ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সরকারি চুরির অভিযোগ এনে আশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম গত ৪ ডিসেম্বর জগন্নাথপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর থানাধীন ৮নং আশারকান্দি ইউনিয়নের দিঘলবাক (আটঘর) এলাকায় কুশিয়ারা নদীতে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছিল। এতে স্থানীয় রাস্তাঘাট ভাঙনসহ পরিবেশের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৭ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৭ টায় জগন্নাথপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মহসিন উদ্দিনের নেতৃত্বে ওই স্থানে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয় এবং একটি ড্রেজার মেশিনসহ তিনটি বলগেট স্টিলের নৌকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সরঞ্জামাদি ৮নং আশারকান্দি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান খানের জিম্মায় রেখে পাহারাদার নিযুক্ত করা হয়েছিল। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ২৪ লক্ষ টাকা।

অভিযোগকারী আব্দুল হালিম জানান, ওইদিন (২৭ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্ত বিবাদীরা অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে এবং পাহারাদারদের চোখ এড়িয়ে জিম্মায় থাকা ড্রেজার ও নৌকাগুলো জোরপূর্বক চুরি করে নিয়ে যায়।

অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার প্যানেল চেয়ারম্যান রুয়েল মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলার আটঘর গ্রামের জিতু মিয়া, মৌলভীবাজার জেলার শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশফাক মিয়া, আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেচি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান জুয়েল, জিম্মাদার আশারকান্দি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান গং।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহসিন উদ্দিন বলেন, “সরকারি সম্পত্তির উপর এমন ন্যাক্কারজনক চুরির ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি চরম অবজ্ঞার নামান্তর। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।