Mon. Jul 20th, 2026


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: হাওর অঞ্চলের একমাত্র সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে কলেজের ২৮০ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক এবং লেকচারার মিলিয়ে মোট ৯১টি শিক্ষকের পদের বিপরীতে বর্তমানে ৫৭টি পদই শূন্য। বিষয়ভিত্তিক একাধিক শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান, র্প্যাকটিক্যাল, থিওরি এবং ক্লিনিক্যাল ক্লাস মারাÍকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত পদের সিংহভাগেই শিক্ষক নেই। সহযোগী অধ্যাপকের ২৫টি পদের মধ্যে ১৯টি, সহকারী অধ্যাপকের ২৬টির মধ্যে ১৯টি এবং লেকচারারের ২৮টি পদের মধ্যে ৯টি শূন্য। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হলো, ডার্মাটোলজি, অর্থোপেডিক্স ও রেডিওলজিÍএই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বর্তমানে একজনও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। ফলে এসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা স¤পূর্ণভাবে পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনে বড় ধরনের সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি কলেজের নিজস্ব হাসপাতালের অবকাঠামোগত কাজ শেষ না হওয়ায় এটি পুরোপুরি চালু হয়নি। হাসপাতাল চালুর জন্য জনবল কাঠামো অনুমোদনের নথি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্থগিত রয়েছে। জনবল অনুমোদন ও আউটডোরিং কার্যক্রম চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য ক্লিনিক্যাল ক্লাস পিছিয়ে পড়ছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ও ওয়ার্ড ক্লাস সাময়িকভাবে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পরিচালিত হচ্ছে। এই সাময়িক ব্যবস্থাতেও পূর্ণাঙ্গ পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব আহমেদ বলেন, “ওয়ার্ড ও ক্লিনিক্যাল ক্লাসের সমস্যা আন্দোলনের পর সাময়িক সমাধান হলেও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। আউটডোরিং কার্যক্রম চালু না হলে পূর্ণাঙ্গ পাঠদান সম্ভব নয়। এতে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে আমরা অসুবিধায় পড়ব।” সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোস্তাক আহমদ ভূইয়া শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষক সংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তিনটি বিষয়ে তো বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকই নেই। আমরা নিয়মিতভাবেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করছি এবং ২ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে জনবল নিয়োগের জন্য চিঠি পাঠিয়েছি।”জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ না হলে বর্তমান ব্যাচগুলোর শিক্ষাজীবনে অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। তবে জনবল নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য বা অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো ¯পষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেনি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা হাওর অঞ্চলের একমাত্র এই সরকারি মেডিকেল কলেজটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করার জন্য দ্রুত শিক্ষক নিয়োগসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত ও জনবলসংক্রান্ত উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।