Sun. Jul 19th, 2026

মো: মামুনুর রশিদ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ব্যস্ত সময় পার করছে। যে কোনো সময় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন দল সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করছে। দলের বাহিরে জোটবদ্ধভাবেও নির্বাচনের জন্য চলছে আলোচনা। আসন ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে চলছে দর কষাকষি।

বিএনপি ও জামায়াত সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে অন্যান্য সমমনা দল গুলোকে নিজেদের পক্ষে জোটে নেয়ার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক দল ছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে অনেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

জাতীয় সংসদের আসন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা পুরোদমে নির্বাচনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সীমান্তবর্তী দুই উপজেলার গ্রামে গ্রামে। চলছে মতবিনিময় ও ডিজিটাল ব্যানার, বিলবোর্ড ও রঙিন পোস্টার লাগানোর কাজ।

বিএনপি নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছেন।

জামায়াতে ইসলামী অনেক আগেই মাওলানা আমিনুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে দুই উপজেলা জুড়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টি এখনও নির্বাচনে অংশনেয়ার কথা না বললেও ১৪, ১৮ ও ২৪ এর নির্বাচনে প্রার্থী কেন্দ্রীয় সদস্য আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন লাঙল প্রতীকে বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার কথা বলছেন।

সিলেটের প্রখ্যাত ওলিয়ে কামেল প্রয়াত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ (র.) প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ ও তালামীযে ইসলামিয়া মনোনীত প্রার্থী মুফতি মাওলানা বেলাল আহমদ মতবিনিময় সভা অব্যাহত রেখেছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী কাতার প্রবাসী মৌলভী লোকমান আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী আরব আমিরাত শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা সাইফুল ইসলাম ইয়াহইয়া গণ সংযোগ করছেন।

গণফোরাম অ্যাডভোকেট শান্তিপদ ঘোষকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও গণঅধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচী ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আব্দুন নুর তালুকদার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর নেতৃত্বাধীন ৩ দলীয় জোট এখনও প্রার্থী ঘোষণা না দিলেও জুড়ী উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক আহ্বায়ক আমেরিকা প্রবাসী আব্দুল মালিক সাচ্চু, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতা বর্তমান এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন, তামিম আহমদ ও রেজাউল করিম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

এছাড়া লন্ডন প্রবাসী বাবুল আহমদ বাবুল, শীতল বাবুসহ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি বিএনপি বা জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হলে এ আসনে তাদের প্রার্থী থাকবে না।

অপরদিকে ৫ দফা নিয়ে আন্দোলনরত ইসলামী ৮ দল নির্বাচনী ঐক্য হলে এ আসনটি জামায়াত পাবে। তখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী প্রত্যাহার করবে।

এখন পর্যন্ত এই আসনের ২টি উপজেলা অর্থাৎ বড়লেখা ও জুড়িতে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা, মিটিং-মিছিল ও গণসংযোগে মানুষের মুখে মুখে একটি নাম অবলোকন করা যায় সেটি হচ্ছে আনজুমানে আল ইসলাহ’র প্রার্থী মুফতি বেলাল আহমদ।

শেষ পর্যন্ত আনজুমানে আল ইসলাহ’র মুফতি বেলাল আহমদ, বিএনপির নাসির উদ্দিন মিঠু ও জামায়াতে ইসলামীর আমিনুল ইসলাম মুল লড়াইয়ে থাকবেন বলে ভোটারদের ধারণা।

আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে খ্যাত এ নির্বাচনী এলাকায় বড়লেখা উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও ১৮টি চা বাগানের সমন্বয়ে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার এবং জুড়ী উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন ও ১৬টি চ বাগানের সমন্বয়ে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজারসহ প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার ভোটার রয়েছেন।

এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটার ও চা বাগানের ভোটারের উপর আসনের জয়-পরাজয় নির্ভর করবে।বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায় ও চা বাগানের ভোট নিজ অনুকূলে নেয়ার জন্য প্রার্থীরা প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন বলে তাদের কর্মী সমর্থকরা জানান।