
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে পুলিশি অভিযানে জব্দ করা ৩১টি ভারতীয় গরুর জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ছয় দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে কনকনে শীতে পড়ে থাকায় গরুগুলোর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। এরই মধ্যে একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও নিলাম স¤পন্ন না হওয়ায় বাকি পশুগুলোও বাঁচবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার জয়নগর লঞ্চঘাট এলাকায় সুরমা নদীতে অভিযান চালায়। অভিযানে একটি বড় নৌকাসহ ৩১টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়। পাচারকারীরা পালিয়ে গেলেও গরুগুলো উদ্ধার করে শহরের লঞ্চঘাট এলাকার পুলিশ ফাঁড়ির সামনের খোলা স্থানে রাখা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর তীরের খোলা জায়গায় তীব্র বাতাস ও শীতের মধ্যে গরুগুলোকে বেঁধে রাখা হয়েছে। নেই কোনো স্থায়ী ছাউনি বা পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা। কয়েক দিনের অযত্ন ও ঠান্ডায় গরুগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। সোমবার বিকেলে সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় দেখা যায়, হাড়কাঁপানো শীতে গরুগুলো কাঁপতে থাকায় স্থানীয়রা খড়কুটো জ্বালিয়ে সেগুলোকে তাপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “পশুগুলো অবলা, ওরা তো বলতে পারছে না। এই শীতে মানুষই টিকতে পারছে না, সেখানে খোলা আকাশের নিচে গরুগুলো ধুঁকছে।” স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গরুগুলো জব্দ করার পরপরই নিলাম প্রক্রিয়া স¤পন্ন করা উচিত ছিল। তারা বলেন, নিলামে দেরি হওয়ায় সরকারি স¤পদ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। পশুদের জন্য কোনো পশুচিকিৎসক বা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। দ্রুত বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করলে বাকি গরুগুলোও মারা যেতে পারে। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ জানান, জব্দ করা গরুগুলোর সুরক্ষায় পুলিশ সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং এরই মধ্যে একটি গরু মারা গেছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা গরুগুলোর নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত স¤পন্ন করার জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে আবেদন জানিয়েছি। আদালতের নির্দেশনা পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে দ্রুত নিলাম স¤পন্ন করা অথবা সাময়িকভাবে কোনো নিরাপদ গোশালায় গরুগুলো স্থানান্তর করা এখন সময়ের দাবি।
