Mon. Jul 20th, 2026

খোলাবাজার অনলাইন ডেস্ক : চালু থাকছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাতে নেওয়া সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। আগামী এক বছর পর্যন্ত চলবে এটি। তবে এক্ষেত্রে ব্যাপক যাচাই-বাছাইয়ের পর কম গুরুত্বপূর্ণ স্কিম বাদ দিয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্কিম যুক্ত করা হয়েছে। এজন্য ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন’ নামে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ৩৬৮ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশ। আর মেয়াদ বাড়ছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে আগামী বুধবার।

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সন্মেলন কক্ষে হতে যাওয়া বৈঠকে সভাপত্বি করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রকল্পটির আওতায় ৩২ হাজার ৮৯২টি সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান। ব্যাপক যাচাই বাছাইয়ের পর গুরুত্বের দিকটি বিচেনা করে একনেকে উপস্থাপনের প্রস্তুত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। এখন ৩৬৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে এটি বাস্তবায়ন করছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এখন এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সামাজিক বন্ধন অটুট রাখতে সার্বজনীন অবকাঠামোসমূহ (কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দির, চার্চ, প্যাগোডা, গুরু দুয়ারা, ঈদগাহ ইত্যাদি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় পর্যায়ের জনসাধারণের মধ্যে সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করতে সামাজিক সমাবেশ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রতিপালনে সরকারি খাস জমিতে বা দানকৃত জমিতে নির্মিত বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সামাজিক বন্ধন, সম্প্রীতিসহ উন্নত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রকল্প এলাকা পরিবর্তন করা হয়নি। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হিসেবে বলা হয়েছে, ভবন ও স্থাপনার পরিমাণ মূল অনুমোদিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) ছিল ১৭ হাজার ৩২১টি। প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে সেটি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩২ হাজার ৮৯২টি।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের পঞ্চম অধ্যায়ে ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতির মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ, কিংবা ভৌগোলিক-আদর্শিক অবস্থান নির্বিশেষে, প্রত্যেক নাগরিক যেন তার ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অধিকার বিনা বাধায় উপভোগ করতে পারেন এর সঙ্গে প্রকল্পটির কার্যক্রম সঙ্গতিপূর্ণ।

প্রকল্পটির সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বাস্তবায়ন অযোগ্য এবং অপেক্ষাকৃত কম জনগুরুত্বপূর্ণ স্কিম বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অধিক জনগুরুত্বপূর্ণ নতুন স্কিম অন্তর্ভুক্ত করায় পূর্ত কাজের পরিমাণ বেড়েছে। এ ছাড়া এলজিইডির বিভাগীয় দর তালিকা হালনাগাদ করার কারণে প্রকল্পের কিছু স্কিমের ব্যয় বেড়েছে। ডিপিপির সংস্থান অনুযায়ী এডিপি বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। ফলে মেয়াদ বাড়াতে হচ্ছে। শুরু থেকে গত মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির ক্রমপুঞ্জিত বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এ ছাড়া খরচ হয়েছে ৮৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির উপর ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত পরিপালন সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ এপ্রিল বর্তমান সরকারের সময় অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদন না দিয়ে কিছু শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে পুনরায় একনেক সভায় পুনর্গঠিত ডিপিপি পাঠাতে বলা হয়। একনেক সভার ওই সিদ্ধান্তের জন্য পুনর্গঠিত ডিপিপি একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে।