খোলাবাজার অনলাইন ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা গভীর নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’তে রূপ নিতে পারে। আর এটি শুক্রবার দুপুর নাগাদ দেশের ১১টি জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এসময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মোংলা ও পায়রা বন্দর থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে গভীর নিম্নচাপটি। এর এগিয়ে যাওয়ার গতি বিশ্লেষণ করলে বলা যেতে পারে, ঘূর্ণিঝড় হিসেবে এটি শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানবে।
ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা ও বরিশালের মাঝখান দিয়ে (খেপুপাড়ার ওপর দিয়ে) উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ মোট ১১টি জেলায় ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে। এসব জেলার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার মধ্যে উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘মিধিলি’। এর নাম দিয়েছে মালদ্বীপ।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে যে লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছিল মঙ্গলবার, সেটি গতকাল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, যেটা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আজ রাত ১২টা থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হবে।
যেহেতু এখন পূর্ণিমা নেই এবং বাতাসের গতিবেগও কম, সেজন্য জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কাও অনেক কম বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, আবহাওয়া দপ্তর থেকে বিপৎসংকেত দেওয়া হবে। সেটা সাত মাত্রায় উঠলেই যেন দ্রুততার সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেব, তারা যেন আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ খাবার পানি ব্যবস্থা রাখতেও নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, হামুন ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রতিটি জেলায় নগদ টাকা, শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আশা করছি, সেই অর্থ ব্যবহার করে আরও কিছু প্রয়োজন হলে আমাদের জানালে ব্যবস্থা করে দেব।
অতীতের ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ এখন নতুন ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মিমি) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিমি বা তার বেশি) বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
গেল মাসের ২৪ তারিখ রাতে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে। এতে প্রাণহানি এবং বসতবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির মুখে পড়েন এই দুই জেলার অনেক মানুষ।