Sun. Jul 26th, 2026

70খোলা বাজার২৪ ॥ সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০১৫ : একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকারদের হাতে নির্যাতিত ৪১ বীরাঙ্গনার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
সোমবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই গেজেট প্রকাশ করে। পর্যায়ক্রমে বীরাঙ্গনাদের সবাই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ বলেন, “তারা মুক্তিযোদ্ধার মত সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। কবে থেকে সেসব সুবিধা তারা পাবেন তা মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে।”
১৯৭১ সালে ডিসেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত নারীদের ‘বীরাঙ্গনা’ স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সম্মান জানান। তার নির্দেশনায় বীরাঙ্গনাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়, যা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত চলছিল।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সামরিক শাসকদের মাধ্যমে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানি জান্তার সহযোগীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরইমধ্যে এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনাও আসে।
শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ৪৩ বছর পর গতবছর ১০ অক্টোবর বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। এরপর চলতি বছর ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ওই প্রস্তাব পাস হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *