Sun. Jun 7th, 2026

sariatpurখোলা বাজার২৪, শুক্রবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬: ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কাছ থেকে শরীয়তপুর জেলার সব গুলো রুটে বাস ভাড়া দ্বিগুন করে আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রিরা অভিযোগ করছে। সিটিং ও লোকাল বাসে ঢাকা-শরীয়তপুর সহ অন্যান্য রুটে ও বাস গুলোতে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিচ্ছে। আর এ অতিরিক্তি ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে যাত্রীদের লাঞ্চিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যাত্রি সাধারন। এ বিষয়ে কতৃপক্ষের নিকট যাত্রীরা অভিযোগ করে ও কোন সুরাহা পাননি। প্রশাসনের লোকজন জেনে ও না জানার ভ্যান করছে। প্রশাসন বলছেন এ বিষয়ে মালিক সমিতির লোকজনদের সাথে কথা হয়েছে ঈদ উপলক্ষে ৮০ টাকা ভাড়া নিবে। এরপরে ও যদি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে সত্যতা প্রমান পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ঢাকা থেকে শরীয়তপুর আসা যাত্রি ভোজেশ্বর এলাকার মোঃ আনোয়ার হোসেন ও সরে জমিন ঘুরে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শরীয়তপুর গামী ঘরমুখো যাত্রিদের কাছ থেকে সিটিং ও লোকাল বাস সহ ঢাকা-শরীয়তপুর ,বেনাপোল , চট্রগ্রাম ,রুটে দ্বিগুনেরও বেশী ভাড়া আদায় করে আসছে শরীয়তপুরের মালিক সমিতি ও শ্রমিকরা । ঈদের ৫দিন আগে থেকেই ঢাকা থেকে শরীয়তপুরে আসা ঘরমুখো যাত্রিদের কাছ থেকে দ্বিগুন ভাড়া আদায় করছে। পাশাপাশি বাসে অতিরিক্ত যাত্রি বোঝাই করে গাদাগাদি করে পরিবহন করছে। কোন নিয়ম নীতি মানছে না বলে অভিযোগ করেছে যাত্রীরা। যদিও গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মালিক ও শ্রমিকদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ঈদ উপলক্ষে একমুখো যাত্রী থাকে সে কারনে ৬০ টাকার পরিবর্তে ৮০ টাকা ভাড়া আদায় করবে। ঈদের পরপর স্বাভাবিক ভাড়া ৬০ টাকা নেয়া হবে। তার পরেও থেমে নেই মালিক ও শ্রমিকরা। তারা যাত্রিদের থেকে হরদমে দ্বিগুন ভাড়া আদায় করছে। ১০০ টাকার কমে কোন যাত্রিই তাদের কাছ থেকে পার পাচ্ছেনা। কেউ কম দিতে চাইলে জোর করে টাকা আদায় করে । একটু বাড়াবাড়ি করলে লাঞ্ছিত করে থাকে শ্রমিকরা।

ঈদের পূর্বে শরীয়তপুর-ঢাকা গ্লোরী এক্সপ্রেসের ভাড়া ছিল ২০০ টাকা।তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৩৫০টাকা অথচ ঈদের ৫ দিন আগে থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

শরীয়তপুর-মঙ্গলমাঝির ঘাটের লোকাল বাসের সচরাচর ভাড়া ছিল ৪৫ টাকা। তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৮০ টাকা । সিটিং সার্ভিসের ভাড়া ছিল ৬০টাকা, তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। শরীয়তপুর থেকে চন্ডিপুরের ভাড়া ছিল ৪০ টাকা, তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। শরীয়তপুর থেকে নাগেরপাড়ার ভাড়া ছিল ৪০ টাকা, তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৫০টাকা। শরীয়তপুর থেকে মাদারীপুরের ভাড়া ছিল ৪৫ টাকা ,তারস্থলে নেয়া হচ্ছে ৭০টাকা। ডামুড্যা থেকে শরীয়তপুরের ভাড়া ছিল ৩৫ টাকা ,তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৫০টাকা। গোসাইরহাট থেকে শরীযতপুরের ভাড়া ছিল ৪৫ টাকা তার স্থলে আদায় করা হচ্ছে ৬০টা। শরীয়তপুর থেকে চন্ডিপুরের ভাড়া ছিল ৩৫ টাকা ,তার স্থলে আদায় করা হচ্ছে ৫০টাকা।

শরীয়তপুর থেকে চট্রগ্রামের ভাড়া ছিল ৭শত ৫০ টাকা, তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ১হাজার ২শত টাকা। শরীয়তপুর থেকে বেনাপোলের ভাড়া ছিল ৪০০টাকা, তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৪শত থেকে ৫০ টাকা। শরীয়তপুর-আলুর বাজার ও শরীয়তপুর-ডামুড্যা, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা রুটের বাস ভাড়ার অবস্থা একই হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রি বোঝাই করে পরিবহনের কারনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মালিক ও শ্রমিকরা। এতে করে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারন করছে এবং যাত্রিরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে যাত্রীদের লাঞ্চিতও হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু লাঞ্চিত করেই ক্ষ্যান্ত থাকে না মারধর করার অভিযোগ ও রয়েছে। যাত্রীদের লাঞ্চিত করার কথা অস্বীকার করে গাড়ির চালক ও শ্রমিকরা বলছে শরীয়তপুর থেকে মাঝিরঘাটে ঈদের পূর্বে যাওয়ার পথে যাত্রি থাকে কম এবং ঈদের পরে মঙ্গলমাঝির ঘাট থেকে শরীয়তপুর আসার যাত্রী ও কম থাকে। এ কারনে ঈদের ৫ দিন আগে ও ঈদের পরে কিছু অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হয়। প্রশাসনের লোকজন এ বিষয়ে জেনে শুনে ও না জানার ভ্যান করছে এবং বলছেন প্রমান পাওয়া গেলে শাস্তি মুলক ব্যবস্থা নিবেন। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দু’িট ঈদেই এমনিভাবে মালিক শ্রমিকরা কশাইর ন্যায় জোর করে য়াত্রিদের কে ঠেকিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। আর প্রশাসনকে বলা হলে তারা তাৎক্ষনিক কোন ব্যবস্থা নিলে ও কতক্ষন পরে আবার শুরু হয় যাত্রিদের উপর নির্যাতন। ভিতরে গাদাগাদি করে বসার পরে ও দেখা গেছে ছাদে করে ও যাত্রিদেরকে পরিবহন করছে। এ সব বাসে কোন রকম দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় দায়িত্ব কে নিবে ? শরীয়তপুরবাসির দাবী কঠোর হাতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলবে।

ঢাকা থেকে শরীয়তপুরে আসা যাত্রি নরবালাখানা গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, মঙ্গলমাঝির ঘাট থেকে শরীয়তপুরে আসছি আমার থেকে ৬০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা ভাড়া আদায় করেছে। আমি বেশি ভাড়া দিতে চাইনি। এরপর আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে।

গোসাইরহাটের নাগের পাড়া এলাকার যাত্রি পলাশ বলেন ,আমি অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকার করাতে আমার সাথে শ্রমিকরা খুব খারাপ আচরন করেছ্ ে।

বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক হোসেন চৌকিদার বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার ব্যাপারে আমি জানিনা। এ বিষয়ে আমি মালিক সমিতির সাথে আলাপ করবো।

বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সহসভাপতি আঃ বারেক বলেন , আমি জানি জেলা প্রশাসনের সাথে সিদ্ধান্ত হয়েছে ৮০ টাকা ভাড়া নেবে। বেশী নেয় এটা আমার জানা নেই।

বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সহসভাপতি সঞ্জীবনাগ বলেন, যারা ভাড়া বেশী নিবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হুসাইন বলেন, বৃহস্পতিবার মালিক ও শ্রমিকদের সাথে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ঈদ উপলক্ষে ৬০ টাকার পরিবর্তে ৮০ টাকা নেয়ার সিদ্ধান্ত করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার সত্যতা প্রমান পাওয়া গেলে আদায় কারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যস্থা নেয় হবে।