
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : আগাম বন্যার কবল থেকে সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল সুরক্ষার লক্ষ্যে সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর সোমবার থেকে হাওরের ডুবন্ত বাঁধ মেরামত ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। জেলার ১২টি উপজেলায় একযোগে এই কাজ শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে, হাওর থেকে এখনও পুরোদমে পানি সরে না যাওয়া এবং বাঁধ জরিপ কাজে বিলম্বের কারণে প্রকল্প প্রস্তুত না হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক বাঁধে কাজ শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাওর থেকে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই পুরোদমে কাজ শুরু হবে। এদিকে, নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করতে তদারকি (মনিটরিং) জোরদারের পাশাপাশি সুচারুভাবে কাজ স¤পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত রবিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা কাবিটা সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মোট ৫১০টি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। জরিপকৃত বাঁধগুলোর মধ্যে ৪৩৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য মোট ১০৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন। তবে, শতভাগ স্কীম প্রণয়নের পর বরাদ্দ ও প্রকল্পের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাউবো কর্তৃক এখন পর্যন্ত অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দ ও প্রকল্পের পরিমাণ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১০টি প্রকল্পে ৪.৬৭৯ কিলোমিটারের জন্য ১কোটি ৮৩ লাখ টাকা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ২৩ টি প্রকল্পে ১৫.৬৫৪ কিলোমিটারের জন্য ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, তাহিরপুর উপজেলায় ৭৩টি প্রকল্পে ৬৭.০৬৪ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ১৬ কোটি টাকা, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৩৭টি প্রকল্পে ৪০.৭১১ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, ধর্মপাশা উপজেলায় ৭৭ টি প্রকল্পে ১০১.১০৯ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, মধ্যনগর উপজেলার ৪১ প্রকল্পে ৫৮.১৫৯ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ৮কোটি ৮০ লাখ টাকা, জগন্নাথপুর উপজেলার ৩৭টি প্রকল্পে ১৮.১৭৯ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৪৮টি প্রকল্পে ৩৩.৩০২ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, দিরাই উপজেলায় ৬২ প্রকল্পে ৩৬.৮৪০ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা , শাল্লা উপজেলার ৬২ প্রকল্পে ৪৩.১৭৭ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১৫টি প্রকল্পে ৫.৯৩২ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ও ছাতক উপজেলার ২৫ টি প্রকল্পে ৯.০১১ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ড পওর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “এখনও হাওর থেকে পানি সরছে না। তাই বাঁধের সার্ভে কাজ ও স্কীম প্রস্তুত করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি। আজ সোমবার থেকে সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় কাজ শুরু হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “আজ ১৫ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু হবে। যে বাঁধের কাজ আগে শুরু হবে, সেটির কাজ সবার আগে শেষ করতে হবে। নীতিমালা মেনে সুচারুভাবে বাঁধ নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করে হাওরের প্রধান ফসল বোরোকে আগাম বন্যা থেকে রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
